ইসরাইল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করেছে স্পেন, যা দেশ দুটির কূটনৈতিক সম্পর্কের আরও অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। আজ বুধবার (১১ মার্চ) প্রকাশিত সরকারি গেজেটে এ তথ্য জানানো হয়। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র জানায়, তেল আবিবে স্পেনের দূতাবাস এখন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে।

 

গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর মাদ্রিদ তাদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করেছিল। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ গাজায় গণহত্যার নিন্দা জানিয়ে তখন একাধিক পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

এরমধ্যে ছিল, ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গাজায় যুদ্ধাপরাধে জড়িতদের স্পেনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, পশ্চিম তীর ও গাজার অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করা, অধিকৃত অঞ্চলে স্পেনীয় নাগরিকদের দূতাবাস (কনস্যুলার) সেবা সীমিত করা এবং রাফাহতে স্পেনের উপস্থিতি বাড়িয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহের নতুন প্রকল্প চালু করার মতো পদক্ষেপ।

এই পদক্ষেপের ফলে ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার তার সমালোচনা করেন। সেই প্রেক্ষাপটেই বিরোধ আরও তীব্র হয়।

এদিকে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল যুদ্ধের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দিলেও স্পেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ‘স্বাভাবিকভাবেই’ চলছে বলে মঙ্গলবার জানান স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস।

এর আগে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সরকার এই যুদ্ধকে ‘বেপরোয়া ও অবৈধ’ বলে অভিহিত করে এবং তেহরানের বিরুদ্ধে অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানকে দক্ষিণ স্পেনের যৌথ ঘাঁটি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এরপরই ট্রাম্পের ক্ষোভের মুখে পড়ে মাদ্রিদ। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস বলেন, ‘ওয়াশিংটনে স্পেনের দূতাবাস এবং মাদ্রিদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ‘পূর্ণ স্বাভাবিক পরিবেশে’ কাজ করছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here