শুক্রবার দুপুরে কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ ও পানি শোধন কেন্দ্রে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ভোরে কুয়েতের অন্যতম বৃহৎ তেল শোধনাগার মিনা আল-আহমাদিতে একঝাঁক ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়। 

কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কুনা জানিয়েছে, ড্রোন হামলায় শোধনাগারের বেশ কয়েকটি ইউনিটে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো কর্মী হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে জরুরি ভিত্তিতে অগ্নিনির্বাপক দল সেখানে কাজ করছে। কুয়েত সিটির বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আজ দিনভর শহরজুড়ে সাইরেনের শব্দ এবং মাঝআকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের প্রচণ্ড বিস্ফোরণ শোনা গেছে।

 

কুয়েত থেকে পাওয়া খবরে জানা যায়, মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারটি দেশটির অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নিয়ে তৃতীয়বার শোধনাগারটিতে হামলা হয়েছে। ইরান সীমান্ত থেকে মাত্র ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হওয়ায় কুয়েত বর্তমানে সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এর আগে গত ৩০ মার্চ একটি পানি শোধন কেন্দ্রে হামলায় একজন ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছিলেন। যদিও ইরান এসব হামলার দায় অস্বীকার করে এর জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে, তবে কুয়েত এই ঘটনাকে ইরানি প্রতিশোধমূলক হামলা হিসেবেই দেখছে।

সংঘাতের উত্তাপ কুয়েত ছাড়িয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আজ বিশাল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলা করেছে। আবুধাবির হাবশান গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে একটি বাধাগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হলে কেন্দ্রটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। দেশটির তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা অন্তত ১৯টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৬টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আমিরাতে এ পর্যন্ত দুইজন সেনা সদস্য নিহত এবং ১৯১ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। একই সময়ে সৌদি আরব তাদের আকাশসীমায় ড্রোন ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে এবং বাহরাইনেও বারবার ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কবার্তা বাজানো হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here