নিজস্ব প্রতিবেদক
‘বহিরাগত’ বিতর্ক এবং সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৈরি এক উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ভণ্ডুল হয়ে গেল কৃষিবিদদের জরুরি তলবী সাধারণ সভা। আর এই ঘটনায় এগ্রিকালচারিস্টস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র (এ্যাব) সদস্য সচিব কৃষিবিদ শাহাদাত হোসেন বিপ্লবের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন সাধারণ কৃষিবিদরা।
তাঁদের অভিযোগ, কৃষিবিদদের গুরুত্বপূর্ণ এ সভায় বহিরাগত ও ‘কিশোর গ্যাং’ এনে জোরপূর্বক নিজের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন এ্যাব সদস্য সচিব কৃষিবিদ শাহাদাত হোসেন বিপ্লব।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ’র (কেআইবি) মূল কনভেনশন হলে কৃষিবিদদের একটি জরুরি তলবী সাধারণ সভার আয়োজিত হয়। যেখানে একজন সভাপতি নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতিতে কেআইবি’র সুষ্ঠু পরিচালনার লক্ষ্যে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। তবে এর আগেই বিভিন্ন পক্ষের বাগবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির জেরে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শেষে তা বাতিল করা হয়।
সাধারণ কৃষিবিদের একাংশ আরও জানিয়েছেন, গঠনতন্ত্র বহির্ভূতভাবে এই সভা আয়োজনের কারণে সারাদেশের কৃষিবিদদের মধ্যে ক’দিন ধরেই এক ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া ছিল। কেআইবি’র বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার ও জ্যেষ্ঠ কৃষিবিদদের সঙ্গে কোনোপ্রকার আলোচনা ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে এই সভা আহ্বান করা হয়, যা সংগঠনের প্রচলিত রীতিনীতি ও গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কৃষিবিদ বলেন, ‘সারাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জ্যেষ্ঠ ও সাধারণ কৃষিবিদরা এ সভায় এসেছিলেন। কিন্তু তারা উপস্থিত হয়ে এখানে শতাধিক বহিরাগতর উপস্থিতি লক্ষ্য করেন। এতে উপস্থিত কৃষিবিদরা চরম বিব্রত ও অসম্মানিত বোধ করেন।’
অভিযোগ রয়েছে, বহিরাগতদের সভাস্থলে এনেছেন এ্যাব সদস্য সচিব বিপ্লব। পরবর্তীতে সেই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যেই তিনি জরুরি সভার এজেন্ডা ও সভাপতিত্বের বিষয়টি একতরফাভাবে নির্ধারণের চেষ্টা করেন। তাছাড়া বিষয়টি উপস্থিত জ্যেষ্ঠ ও সাধারণ কৃষিবিদদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ারও উদ্যোগ নেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এ্যাব সদস্য সচিবের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এদিন সাধারণ কৃষিবিদদের জোরালো দাবি ছিল যে, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক (এ্যাব) ও সরকারি কর্মকমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. গোলাম হাফেজ কেনেডিকে এ সভার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হোক। কিন্তু এই দাবি উপেক্ষা করে বিপ্লব তাঁর মনোনীত ব্যক্তি কৃষিবিদ ইব্রাহিম খলিলকে সভাপতি হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
এসব ঘটনায় সভাস্থলের পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠে। একপর্যায়ে সাধারণ কৃষিবিদদের প্রতিবাদের মুখে সভাটি প্রথমে ৩০ মিনিটের জন্য স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেন এ্যাব সদস্য সচিব বিপ্লব।
এদিকে, এ্যাব’র বর্তমান ৬ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটিতে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ রয়েছে। কৃষিবিদদের এই পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত কারও কারও মতে, গত ২০ অক্টোবর এই আংশিক কমিটি গঠিত হওয়ার পর এখনও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি দায়িত্বশীলরা, ফলে এক ধরনের সাংগঠনিক অনিশ্চয়তাও তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এ্যাব’র বিভিন্ন চ্যাপ্টার কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করায় প্রায় ৬ শতাধিক সদস্য হঠাৎ করেই পদবঞ্চিত হয়ে পড়েছেন। সাধারণ কৃষিবিদদের প্রত্যাশা, সংগঠনের গঠনতন্ত্র, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে সকল কার্যক্রম পরিচালিত হোক, যেখানে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর কেআইবি’র তৎকালীন নির্বাহী কমিটি ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনেকে আত্মগোপনে চলে গেলে প্রতিষ্ঠানটিতে নানা জটিলতা তৈরি হয়। ফলে একজন প্রশাসক নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যদিও এতে জটিলতার নিরসন সম্ভব হয়নি, বরং নানা ক্ষেত্রে আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ কৃষিবিদদের।




