বগুড়ায় পিঁয়াজের বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষীরা। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া সহ পাইকারি বাজারে দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। মাঠ পর্যায়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা উৎপাদন খরচের তুলনায় খুবই কম। এমন পরিস্থিতিতে অনেক চাষী জমি থেকে এখনো পরিপক্ক পিঁয়াজ উত্তোলন করছেন না। 

চাষীরা বলছেন, ভালো ফলনের আশায় এবার ব্যাপকভাবে পিঁয়াজ চাষ করেছিলেন তারা। কিন্তু বাজারে ন্যায্য দাম না থাকায় সেই আশায় ভাটা পড়েছে।

 

জানা যায়, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, ধুনট, শাজাহানপুর, শিবগঞ্জসহ অন্যান্য উপজেলায় পেঁয়াজের ভালো ফলন হয়েছে। তবে পিঁয়াজের সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে সারিয়াকান্দি উপজেলায়। এ উপজেলায় বিভিন্ন চরে পিঁয়াজ চাষ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। বিঘাপ্রতি কৃষকেরা ৪০ থেকে ৪৫ মণ করে পিঁয়াজ পাচ্ছেন। ফলন ভালো হলেও বাজারে প্রতিমণ পিঁয়াজ ১ হাজার টাাঁয় বিক্রি করে তারা লাভ করতে পারছেন না। দাম কম থাকায় অনেক কৃষক জমি থেকে এখনো পরিপক্ক পিঁয়াজ উত্তোলন করছেন না। 

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলাজুড়ে এ বছর পিঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৬০০ হেক্টর। অর্জন হয়েছে ১ হাজার ৪১০ হেক্টর। এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমির পিঁয়াজ উত্তোলন করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন হয়েছে। বিঘাপ্রতি গড় ফলন হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ মণ।

সারিয়াকান্দি উপজেলার কাজলার চরের চাষী বেলাল হোসেন জানান, যমুনা নদীর জেগে ওঠা চরে ৯ বিঘা জমিতে তিনি এ বছর পিঁয়াজের আবাদ করেছেন। আবহাওয়া ভালো থাকায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। ৯ বিঘা জমিতে সার, পানি, কীটনাশক, বীজ এবং শ্রমিক খরচসহ তার প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বাজারে দাম না থাকায় ৯০০ টাকা থেকে ১১০০ টাকা পর্যন্ত মণ বিক্রি করেছেন। এতে তার বিঘাপ্রতি পিঁয়াজ চাষে তেমন লাভ হচ্ছে না। দাম নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় থাকায় তিনি বাকি জমির পেঁয়াজ উত্তোলন করছেন না। 

আরেক কৃষক আব্দুল হামিদ জানান, লাভের আশায় যমুনা নদীর চরে পিঁয়াজের আবাদ করে সফল হয়েছেন। কিন্তু বাজারে ন্যায্য দাম না থাকায় সেই আশায় ভাটা পড়েছে। চড়ামূল্যের শ্রমিক নিয়ে পিঁয়াজ চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন না। 

তিনি বলেন, বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে পিঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারাতে পারেন কৃষকরা। এতে করে আগামী মৌসুমে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার বেলে দোআঁশ মাটি পেঁয়াজ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর ভালো ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বাজারে কৃষকরা পিঁয়াজের দাম কম পাচ্ছেন। এক্ষেত্রে কৃষকদের বাড়ির আড়ায় পেঁয়াজ সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য উপজেলার বেশকিছু কৃষকের মাঝে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদিও বিতরণ করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here