বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় এবং সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ঘিরে বিএনপিতে আসছে বড় পরিবর্তন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে তাঁকে মন্ত্রীর পদ ছাড়তে হবে। মির্জা ফখরুল ইসলামের মন্ত্রণালয় ঘিরে পরিবর্তন হতে পারে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মন্ত্রণালয়ের সমীকরণ। এ ছাড়া তাঁকে ছাড়তে হবে দলের মহাসচিব পদ। এ ছাড়া দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটি থেকে শুরু করে দলের সব সদস্য পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেছেন। সব মিলিয়ে বিএনপিসহ সরকারে আসছে বড় পরিবর্তন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দল থেকে শুরু করে মন্ত্রিপরিষদে কোন খাতে কী পরিবর্তন, সবই নির্ধারণ করবেন দলীয়প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
কে সামলাবেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়? : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বঙ্গভবনের বাসিন্দা হলে ফাঁকা হবে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বৃহৎ দপ্তর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। গুঞ্জন রয়েছে, দপ্তর বদল করে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে। তিনি স্থানীয় সরকারে গেলে ফাঁকা হওয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উত্তরসূরি হিসেবে আসতে পারেন বর্তমান পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। এ ছাড়া বর্তমানে এ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করে আসা প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে।
বাবার আসনে হাল ধরবেন ফখরুলকন্যা নাকি ভাই? মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে শূন্য ঘোষণা করা হবে তাঁর সংসদীয় আসন ঠাকুরগাঁও-১ (সদর)। এই আসনে উপনির্বাচনে মির্জা পরিবারের সদস্য নাকি অন্য কেউ বিএনপির টিকিট পাবেন, তা নিয়েও চলছে জল্পনা। তবে শেষ পর্যন্ত মির্জা ফখরুলের মেয়ে কিংবা ভাইয়ের মধ্য থেকেই কারও উঠে আসার সম্ভাবনা বেশি।
মহাসচিব হিসেবে আলোচনা যাঁরা : ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দায়িত্ব পালন করবেন এমন আলোচনা ছিল। এরই মধ্যে তাঁকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর আগে মহাসচিব হিসেবে আলোচনায় ছিলেন দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, ডা. জাহিদ ও যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। দলীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ করা হতে পারে।
স্থায়ী কমিটিতে আসছে নতুন মুখ, আলোচনায় কয়েক নেতার নাম : রদবদলের অংশ হিসেবে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে আসছে নতুন মুখ। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, তরুণ, ত্যাগী ও সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় নেতৃত্বকে সামনে আনার পাশাপাশি অভিজ্ঞ নেতাদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় নন। অপরদিকে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর দলের সাংগঠনিক পদে নেই। মির্জা ফখরুলও পদত্যাগ করেছেন। আলোচনায় রয়েছে ভাইস চেয়ারম্যান ও সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুকের নাম।
মন্ত্রিপরিষদে আসতে পারেন যাঁরা : সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। ১৭ আগস্ট বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা, মন্ত্রণালয় পরিচালনায় সক্ষমতা এবং ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে মূল্যায়ন চলছে বলে সরকারসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভার কারও কারও দপ্তর পরিবর্তন হতে পারে। আবার কারও দায়িত্ব কমতে পারে, একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা কয়েকজনের দপ্তর ভাগ করে দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ যুক্ত করার বিষয়েও জোরালো আলোচনা রয়েছে। রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। এর মধ্যে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এমপি, ড. আবদুল মঈন খান এমপি ও সেলিমা রহমান এমপিকে মন্ত্রী করা হতে পারে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন। মন্ত্রিপরিষদে যুক্ত হতে পারেন বিএনপি নেতা জয়নুল আবদিন ফারুক এমপি। মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ দেখা যেতে পারে, এমন আলোচনায় যুগপৎ আন্দোলনে বিএনপির শরিক দলগুলোর নেতাদের কারও কারও নামও আসছে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি সরকারের কার্যক্রম সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা করছে। তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসার প্রথম ১৮০ দিনের অর্জন, কর্মকাণ্ড ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে চলমান এই পর্যালোচনা শেষে জাতির সামনে সরকারের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তভার তারেক রহমানের হাতে : মির্জা ফখরুলকে বঙ্গভবনে পাঠানো হতে শুরু করে দলের মহাসচিব থেকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিববের দায়িত্ব কে পালন করবেন, জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে কারা কারা আসবেন তার ভার কার কাঁধে যাবে এবং মন্ত্রিসভায় কী রদবদল আসবে তার সব রূপরেখাই আসছে দলীয় প্রধানের কাছ থেকে।




