দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। রাতভর কূটনৈতিক যোগাযোগের পর উভয় পক্ষের হাতে পৌঁছেছে একটি দ্বিমুখী শান্তি পরিকল্পনার খসড়া।

রয়টার্স ও অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় প্রথম ধাপে ৪৫ দিনের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার কথা রয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে স্থায়ী ও বিস্তৃত শান্তি চুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তিনি রাতভর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন।

তবে শান্তি প্রস্তাব সামনে এলেও হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে অনড় রয়েছে তেহরান। এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, সাময়িক যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে এখনই প্রণালি খুলে দিতে রাজি নয় তারা। পাশাপাশি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে নেওয়ার বিষয়েও আপত্তি রয়েছে।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইরান চুক্তিতে না এলে দেশটির জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামোর ওপর কঠোর আঘাত আসবে।

এই হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। দীর্ঘ পাঁচ সপ্তাহের সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং তেলের দাম বৃদ্ধিতে বিশ্ব অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও হরমুজ প্রণালি ইস্যুই এখন সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here