দীর্ঘ কয়েক দশকের স্থিতিশীলতা আর আভিজাত্যের মোড়ক ছাপিয়ে দুবাই এখন মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ এখন আর কেবল নির্দিষ্ট সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বরং তা আছড়ে পড়ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে।
সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১৭শ’ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আমিরাতের আকাশসীমা লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে। যদিও উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এর বেশিরভাগই প্রতিহত করা হয়েছে, তবুও আকাশ থেকে পড়া ধ্বংসাবশেষ এবং কিছু সরাসরি আঘাতে দুবাইয়ের জনবহুল এলাকায় সাধারণ মানুষের মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান দুবাইকে লক্ষ্যবস্তু করার পেছনে সামরিক কৌশলের চেয়ে মনস্তাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। দুবাইকে ধরা হয় পশ্চিমা বিশ্বের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রতীক এবং বিশ্বায়নের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুবাইয়ের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া মানে গোটা বিশ্বের বাণিজ্যিক আত্মবিশ্বাসে ফাটল ধরানো। ইরান যদিও দাবি করছে তাদের এই হামলা মূলত আমিরাতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও উপস্থিতির বিরুদ্ধে, তবে ভৌগোলিক অবস্থান এবং মাত্র ১০০ কিলোমিটারের দূরত্ব দুবাইকে ইরানের জন্য একটি সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও দুবাই তার স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখার চেষ্টা করছে। একদিকে যখন বিমানবন্দরের কাছে ড্রোনের কালো ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকে মেরিনা ডিস্ট্রিক্টে বিস্ফোরণের শব্দ ছাপিয়েও পর্যটকদের সমুদ্র সৈকতে সময় কাটাতে দেখা যাচ্ছে। তবে এই স্থিতিশীলতার চিত্রটি এখন বড় পরীক্ষার মুখে।
বছরের পর বছর ধরে দুবাই নিজেকে একটি নিরাপদ স্বর্গরাজ্য হিসেবে তুলে ধরেছে, কিন্তু বর্তমান সংঘাত সেই ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়ে উত্তেজনা প্রশমনের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে হামলার ধারা অব্যাহত রয়েছে, যা আমিরাতের সাধারণ মানুষ ও প্রবাসী ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করছে।




